হাদিস কি নির্ভরযোগ্য?
[হাদিস নিয়ে আমাদের অনেকের মনে ধোঁয়াশা আছে। নিচের লেখাটি পড়লে হাদিস কতটা নির্ভরযোগ্য তা নিয়ে আমাদের আইডিয়া আসবে ইন-শা-আল্লাহ।]
ইবনু আবি আসিম (মৃ. ২৮৭ হি.) এবং তাবারানি (মৃ. ৩৬০ হি.) তাদের ইসনাদসহ বর্ণনা করেছেন যা তাবিয়ি আবদুর-রহমান ইবনু ইয়াসার পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেন: "আমি উমার ইবনুল খাত্তাবের মৃত্যুর সময় তার কাছে উপস্থিত ছিলাম। সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।"
[আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি, ৭৭; আল-মুজামুল কাবির, ৭৯]
আরেকজন তাবিয়ি মাদান ইবনু আবি তালহা থেকে বর্ণিত হয়েছে, উমার ছুরিকাহত হন বুধবারে, জিলহজ মাস সমাপ্তির চারদিন আগে।
[মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা, ৩৪৫৬২; মুসতাদরাক আল-হাকিম, ৩/৯০, এবং অন্যান্য—ইসনাদ সহিহ]
আরো অনেক বর্ণনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, উমার নিহত হন হিজরি ২৩ সনে। তিনি শাসন করেন মোট ১০ বছর।
কিছু বর্ণনাকারী আর ঐতিহাসিকের মতে উমার বুধবারে মারা যান। অন্যদের মতে তিনি বুধবারে ছুরিকাহত হলেও তিনদিন বেঁচে ছিলেন। এরপর মারা যান।
[আবু নু'আইম, মারিফাতুস-সাহাবা, ১৬২]
উমার ছুরিকাহত হন বুধবার সকালে, এবং এর তিনদিন পর মারা যান। কিন্তু এটা দ্বারা তিনি বুধ, বৃহস্পতি আর শুক্রবার শেষে শনিবারে মারা যান, নাকি শুক্রবারে মারা যান সেটা স্পষ্ট না। এখন আমরা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের আলোকে উমারের মৃত্যুর তারিখ নির্ণয় করব।
নাসার Eclipse ওয়েবসাইট অনুযায়ী ৫ নভেম্বর ৬৪৪ সালে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল—
https://eclipse.gsfc.nasa.gov/SEsearch/SEsearchmap.php?Ecl=06441105
৬৪৪ সালের ৫ নভেম্বর ছিল শুক্রবার। নিচের ওয়েবসাইটে যাচাই করা যাবে—
https://www.timeanddate.com/date/weekday.html
৬৪৪ সালের ৫ নভেম্বর হিজরি হিসাবে ছিল ২৮ জিলহজ্জ, ২৩ হিজরি সন—
http://www.muslimphilosophy.com/ip/hijri.htm
সারকথা:
২৩ হিজরি সালের ২৬ জিলহজ বুধবারে উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) ছুরিকাহত হন। ফলে সে মাসের ২৮ তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন ছিল ৬৪৪ খ্রিস্টাব্দের ৫ই নভেম্বর। একইদিনে সূর্যগ্রহণ হয়।
বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন বর্ণনাকারী একটা বিষয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। অথচ তাদের প্রদত্ত তথ্য একে অন্যের সম্পূরক হিসেবে কাজ করছে। এভাবে হাদিস বর্ণনায় ইসনাদের নির্ভরযোগ্যতা বৈজ্ঞানিক এবং গাণিতিকভাবে প্রমাণিত হল।
একটা জিনিস খেয়াল করুন। এই বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে আমরা উমারের মৃত্যু কত তারিখে হয়েছে তা নির্ণয় করতে পারছি। তাঁর মৃত্যুর তারিখ জানা দ্বীনের কোনো অপরিহার্য বিষয় না। তা সত্ত্বেও এটা আমরা ইসনাদের মাধ্যমে সঠিকভাবে জানছি। এই ক্ষুদ্র বিষয়টা যদি আমাদের কাছে ইসনাদের মাধ্যমে সঠিকভাবে এসে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে দ্বীনের বিধিবিধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আমাদের কাছে ইসনাদের মাধ্যমে সঠিকভাবে এসেছে।
অনূদিত
মূল: নাবিল নিসার শেখ (হাফিযাহুল্লাহ)

.jpg)
Comments
Post a Comment